সেফটি কমিটি

নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরী ও চলমান রাখার জন্য মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরী হয় সেফটি কমিটি। কোন ফ্যাক্টরিতে ৫০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত  থাকলেই সে ফ্যাক্টরিতে সেফটি কমিটি থাকা বাধ্যতামূলক।

আপনি জানেন কি, আপনার ফ্যাক্টরিতে সেফটি কমিটি কার্যকর আছে কিনা?

সেফটি কমিটির সদস্য

সেফটি কমিটির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৬ জন থেকে সর্বোচ্চ ১২ জন পর্যন্ত হয়। উল্লেখ্য যে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্য থেকে সমান সংখ্যক (৫০-৫০) প্রতিনিধি এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন। 

সেফটি কমিটির সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ

  • শ্রমিকের সংখ্যা ৫০০ জনের কম হলেঃ ৬ জন সদস্য
  • শ্রমিকের সংখ্যা ৫০১ জন থেকে ১০০০ জনঃ ৮ জন সদস্য
  • শ্রমিকের সংখ্যা ১০০১ জন থেকে ৩০০০ জনঃ ১০ জন সদস্য
  • শ্রমিকের সংখ্যা ৩০০০ জনের বেশি হলেঃ ১২ জন সদস্য

সেফটি কমিটিতে পদবি নির্ধারণ

  • প্রেসিডেন্ট/ সভাপতি (মালিক পক্ষ থেকে)
  • ভাইস প্রেসিডেন্ট/ সহ-সভাপতি (শ্রমিক পক্ষ থেকে)
  • মেম্বার সেক্রেটারী/ সদস্য সচিব
  • জেনারেল মেম্বার/ সাধারণ সদস্য

কোন ফ্যাক্টরির মোট শ্রমিকের সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ নারী শ্রমিক থাকলে, সেফটি কমিটির মোট সদস্যের এক তৃতীয়াংশ নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন।

সেইফটি কমিটি কখন গঠন করতে হবে

ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার ৯ মাসের মধ্যে প্রত্যেক ফ্যাক্টরিতে সেইফটি কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক।

মনোনয়ন

শ্রমিকপক্ষ প্রতিনিধি মনোনয়নের ৭ দিনের মধ্যে মালিকপক্ষও তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করবেন। উভয়পক্ষই তাদের মনোনয়ন দেবার ১৫ দিনের মধ্যে সেইফটি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে হবে।

মালিকপক্ষ সেইফটি কমিটির সদস্যদের তালিকা পদবীসহ প্রকাশ ও প্রদর্শন করবেন এবং সাধারণ শ্রমিকদের অবহিত করবেন।

মেয়াদকাল

সেফটি কমিটির মেয়াদকাল যেদিন প্রথম সভা হবে, সেদিন থেকে দুই (০২) বছর।

সেইফটি কমিটির ভূমিকা

লাইন ম্যানেজমেন্ট অর্থাৎ, প্রধান নির্বাহী থেকে শুরু করে লাইন সুপারভাইজার – সবারই দায়িত্ব ফ্যাক্টরিতে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা।

সেফটি কমিটির ভূমিকা হচ্ছেঃ

  • পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (অশ) বিষয়ে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ প্রদান করা
  • পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (অশ) সম্পর্কিত আইন, বিধিমালা ও অন্যান্য নীতিমালা বাস্তবায়নে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা
  • পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (অশ) সম্পর্কিত নীতিমালার বাস্তবায়ন মনিটর করা
  • ফ্যাক্টরিতে বিভিন্ন গ্রুপের জন্য পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (অশ) বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা
  • আইন বাস্তবায়নে কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে সমন্বয় করা

সেইফটি কমিটির কাজ

  • ফ্যাক্টরির পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতিমালা ও কর্মপন্থা তৈরী, বাস্তবায়ন এবং মনিটরিং এ অংশগ্রহণ করা
  • ফ্যাক্টরির অগ্নি নির্বাপক দল, উদ্ধারকারী দল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী দল গঠনে সহায়তা দেওয়া ও তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা
  • ঝুঁকি নিরুপনের চেকলিস্ট প্রস্তুত করা
  • ফ্যাক্টরিতে চেকলিস্টের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে বিস্তারিত ঝুঁকি নিরুপন পরিচালনা করা, ঝুঁকি হ্রাসের সুপারিশ প্রস্তাব করা এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা
  • অগ্নি নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (অশ) সম্পর্কিত আইন, বাস্তবায়নের বিধিমালা, ভবন নিরাপত্তা বিষয়ক বিধি ইত্যাদির হালনাগাদ অনুলিপি সংরক্ষণ করা
  • ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সেইফটি কমিটির কার্যক্রম সম্মন্ধে অবহিত করা (শ্রমিকদের উত্থাপিত সমস্যার সমাধান করা অথবা সমাধানে দেরি হলে শ্রমিকদের তার কারন জানানো)
  • কমিটির সাথে সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষসমূহের সমন্বয় করা। সেফটি কমিটি সুপারিশ পাঠানোর ৭ দিনের মধ্যে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরকে অবহিত করা
  • প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখা এবং সম্ভাব্য সমাধান সুপারিশ করা
  • কোন ঝুঁকি চিহ্নিত হলে ফ্যাক্টরি মালিককে জানানো
  • শ্রমিকদের কাছ থেকে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (অশ) সম্পর্কিত অভিযোগ গ্রহণ করা এবং সেগুলোর কারন অনুসন্ধান ও সমাধান করা
  • শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (অশ) সম্পর্কিত প্রবল ও তাৎক্ষনিক ঝুঁকি নির্ধারণ করা এবং জরুরিভিত্তিতে তা সমধানে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা
  • প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রচারাভিযানের উদ্যোগ ও বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা
  • দুর্ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করা
  • পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (অশ) বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের বিস্তারিত ঠিকানা হালনাগাদ রাখা