অগ্নি নিরাপত্তা

অগ্নি নিরাপত্তা বলতে অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঘটে যাওয়া জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করা বা কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে গৃহীত ব্যবস্থাকে বুঝায়।

ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণসমুহ

  • বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট
  • ত্রুটিপূর্ণ কিংবা নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার
  • বয়লার কিংবা ট্রান্সফর্মারের বিস্ফোরণ
  • দাহ্য তরল কিংবা রাসায়নিক পদার্থ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা
  • দাহ্য বস্তুর আশেপাশে ওয়েল্ডিং বা আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরী হয় এমন কোনো কাজ করা
  • উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম হতে মাত্রাতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হওয়া
  • রান্নাঘরের চুলার অসতর্ক ব্যবহার

দ্রুত বের হওয়া এবং উদ্ধার পরিকল্পনা

আগুনের উপস্থিতি লক্ষ্য করার সাথে সাথে অগ্নি নির্বাপণ এলার্ম বাজিয়ে দিন!

অগ্নি নির্বাপণ এলার্মের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে শান্ত থাকুন এবং দ্রুততার সাথে বাইরে বেরিয়ে আসুন। ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদি সাথে নিয়ে বের হতে যাবেন না, এতে সময় নষ্ট হয়ে আপনার জীবন বিপন্ন হতে পারে।

ফ্যাক্টরি বিল্ডিং থেকে বের হতে নিকটবর্তী বের হওয়ার পথ অথবা জরুরি বিকল্প পথ ব্যবহার করুন।

বের হওয়ার দরজা খোলার আগে দরজার হাতলে আগে হাত দিয়ে আলতো স্পর্শ করে দেখুন। হাতে গরম অনুভূত হলে দরজাটি খুলবেন না।

অগ্নি দুর্ঘটনার সময় কখনোই লিফট ব্যবহার করবেন না।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, নারী ও দুর্বল ব্যক্তিদের প্রথমে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করুন!

সংশ্লিষ্ট ভবনের নির্ধারিত এসেম্বলি পয়েন্ট তথা নির্ধারিত নিরাপদ জায়গায় গিয়ে আপনার সুপারভাইজারকে জানান যে আপনি নিরাপদ আছেন।

ফ্যাক্টরি বিল্ডিং খালি করা

আপনি যদি ফ্যাক্টরি বিল্ডিং পরিত্যাগ করার সময়ে ধোঁয়া দেখেন বা অনুভব করেন, সাথে সাথে মেঝেতে বসে পড়ুন এবং আপনার নাক ও মুখ কাপড় দিয়ে ছাঁকনির ন্যায় ঢেকে নিন।

আপনার পরনের কাপড়ে আগুন লেগে গেলে ঘাবড়ে গিয়ে দৌড়াবেন না! বরং হাত দিয়ে মুখ ঢেকে মাটিতে শুয়ে আগুন নিভে না যাওয়া পর্যন্ত গড়াগড়ি দিন।

আপনি যদি ভেতরে আটকা পড়েন, তাহলে আপনার আশেপাশের দরজাসমূহ বন্ধ করে দিন যাতে আগুন কিংবা বিষাক্ত ধোঁয়া কোনোটাই আপনার কক্ষে ঢুকতে না পারে।

ফ্যাক্টরি বিল্ডিং থেকে বের হওয়ার সময় প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স এবং সরঞ্জামাদি আপনার হাতের নাগালে রাখুন যাতে জরুরি প্রয়োজনে সেগুলো খুব দ্রুত ব্যবহার করা যায়।

সাহায্যের জন্যে কল করুন

জরুরি সাহায্যের জন্য, ফ্যাক্টরি বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে এসে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স– এর নম্বরসমূহে (০২২২ ৩৩ ৫৫৫৫৫ অথবা ৯৯৯) কল করুন।

আপনি কল করে সাহায্য চাইলে ফায়ার সার্ভিস আপনাকে নিম্নলিখিত প্রশ্নসমুহ করবেঃ

  • কে কল করেছে অর্থাৎ, আপনার পরিচয়?
  • কোথায় দুর্ঘটনা ঘটেছে / জরুরি সাহায্য প্রয়োজন?
  • কী হয়েছে? আগুন, বিস্ফোরণ ইত্যাদি?
  • কেউ কি আহত হয়েছে? হলে, সংখ্যা কতো?

ফায়ার সার্ভিসের প্রাসঙ্গিক আরও প্রশ্নের জন্যে নিজেকে তৈরি রাখুন এবং সঠিকভাবে সকল তথ্য দিন।

জরুরী বহির্গমন পথসমূহ

ফ্যাক্টরি বিল্ডিং এর যেসব কক্ষে বিশ জনের অধিক কর্মী কর্মরত থাকবে, সেসব কক্ষসমূহের প্রত্যেকটিতে কমপক্ষে দুইটি করে বহির্গমন পথ থাকা আবশ্যক।

প্রতিটি ফ্লোর থেকে বের হবার জন্যে বিল্ডিংয়ের ভেতরে এবং বাইরে আগুন প্রতিরোধক উপাদানে তৈরি কমপক্ষে দুইটি স্থায়ী, টেকসই এবং পৃথক সিঁড়ি থাকতে হবে।

প্রতিটি বহির্গমন পথ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে এবং ফ্যাক্টরীতে কাজ চলাকালীন সময়ে এই পথগুলো খোলা থাকতে হবে।

জরুরি বহির্গমন পরিকল্পনা

ফ্যাক্টরির প্রত্যেকটি ফ্লোরের এক বা একাধিক স্থানে জরুরি বহির্গমন পরিকল্পনা দৃশ্যমান ও সুস্পষ্টভাবে টানানো থাকতে হবে।

প্রতিটি বহির্গমন পথে এবং সিঁড়িতে জরুরি আলোক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

অগ্নি শনাক্তকারী সেন্সর এবং এলার্ম ব্যবস্থা সর্বদা কার্যকর থাকতে হবে।

আইন অনুযায়ী, যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নি নির্বাপণ সামগ্রীর মজুদ থাকতে হবে।

অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ

প্রত্যেক ডিপার্টমেন্ট এর কর্মীদের মধ্যে কমপক্ষে ১৮ শতাংশ কর্মীকে অগ্নি নির্বাপণ, জরুরী উদ্ধারকার্য, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরিবহনযোগ্য অগ্নি নির্বাপণ সামগ্রীর ব্যবহারবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষিত হতে হবে।

সকল অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতে ৫০০ জনের অধিক কর্মী রয়েছে, এমন ফ্যাক্টরিতে অবশ্যই একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফায়ার সেইফটি অফিসার নিয়োগ দিতে হবে এবং অগ্নি নির্বাপণ, উদ্ধারকার্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা; এই তিনটি দল নির্ধারণ করে প্রতি ছয়মাস অন্তর সেই অফিসারের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫০ জনের অধিক কর্মী নিযুক্ত রয়েছে এমন ফ্যাক্টরিতে প্রতি ছয়মাস অন্তর কমপক্ষে একটি করে অগ্নি নির্বাপণ মহড়া আয়োজন করতে হবে।

অগ্নি নিরাপত্তায় করণীয়

ওয়েল্ডিং এবং আগুন সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে ধূমপান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলা আবশ্যক।

কোনো অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন। যেমনঃ অগ্নি নির্বাপক দরজার (ফায়ার ডোর) নিচে কোনো প্রকার অবলম্বন দিয়ে দরজা খোলা রাখবেন না।

সম্ভাব্য আগুন লাগার উৎস কিংবা ঝুঁকির ব্যাপারে ফ্যাক্টরি মেনেজমেন্টকে অবহিত করুন।

ভবনের যেসকল স্থানে অগ্নি নির্বাপণ সামগ্রী ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে সেই স্থানগুলোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট জ্ঞান এবং যথাযথ ধারণা রাখুন।  

ভবন পরিত্যাগের এবং উদ্ধারকার্যের সময়ে যেসকল পথ ব্যবহৃত হবে সে সকল পথে মালামাল রাখা থেকে বিরত থাকুন। চলাচলের পথ সবসময় উন্মুক্ত রাখুন।

ফায়ার অ্যালার্ম শোনার সাথে সাথেই যত দ্রুত সম্ভব কাজের জায়গা এবং ভবন পরিত্যাগ করুন।

অহেতুক ঝুঁকি নিয়ে হিরো সাজার চেষ্টা করবেন না! কিন্তু আপনি যদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলের সদস্য হোন তাহলে আপনার প্রশিক্ষণ ব্যবহার করে এবং যথাযথ নিরাপত্তা অবলম্বন করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করবেন।