কেমিক্যাল বা রাসায়নিক ঝুঁকি

যেকোনো রাসায়নিক দ্রব্যের সরাসরি সংস্পর্শে আসা কিংবা বিভিন্ন রাসায়নিক (যেমনঃ গ্যাস, বাষ্প, এরোসল স্প্রে, সূক্ষ্ণ কণা, তরল বা কঠিন অবস্থার) দ্রব্য ব্যবহারের সময় যে ঝুঁকি তৈরি হয় তাই কেমিক্যাল বা রাসায়নিক ঝুঁকি।

এখানে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যালের উদাহরণ দেয়া হলোঃ

  • গ্যাসোলিন বা পেট্রল জাতীয় পদার্থ অনেক দাহ্য, এই পদার্থ থেকে খুবই তাড়াতাড়ি ও সহজে আগুন লেগে যায়
  • পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল দেহে থেকে যায় এবং এটা থেকে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে
  • বিভিন্ন এসিড এবং ক্ষার (যেমনঃ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড) দেহে রাসায়নিক পোড়া ক্ষত তৈরি করতে পারে

আপনি কীভাবে রাসায়নিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন?

  • বাতাসে মিশ্রিত রাসায়নিক দ্রব্য যেমনঃ গ্যাস, বাষ্প এবং ধূলো কণা, ধোঁয়া, এরোসল স্প্রে ইত্যাদির সংস্পর্শে আসলে
  • ত্বক এবং চোখের মাধ্যমে যদি কঠিন, তরল বা বায়বীয় অবস্থায় কোন রাসায়নিক দ্রব্য আপনার দেহে প্রবেশ করে
  • তরল কিংবা কঠিন অবস্থার কোন রাসায়নিক দ্রব্য আপনার পেটে গেলে

কিছু কিছু রাসায়নিক ঝুঁকি আপনার স্বাস্থ্য ও জীবনের উপর নিম্নলিখিত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে

  • ত্বক ও চোখে এলার্জি এবং জ্বালা পোড়া
  • অঙ্গহানি এবং ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা
  • গর্ভপাত, গর্ভধারণে ঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি হওয়া
  • গর্ভের শিশুর ক্ষতির কারণ হওয়া

রাসায়নিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন!

রাসায়নিক ঝুঁকি পরিবেশের উপর নিম্নলিখিত প্রভাব ফেলতে পারে

  • জলজ জীববৈচিত্রের মৃত্যু ঘটাতে পারে
  • পানি (পানযোগ্য এবং জলাশয়) ও মাটির দূষণ ঘটায়
  • বায়ুদূষণ ঘটায়

বাতাসের মাধ্যমে প্রবাহিত ও খালি চোখে দেখা যায় না এমন বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে!

দাহ্য রাসায়নিক দ্রব্য আগুন লাগার কারণ!

এছাড়াও দাহ্য রাসায়নিক দ্রব্যের ঝুঁকিগুলো হলো –

  • বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে
  • বিল্ডিং, কাঠামো এবং যন্ত্রাংশের ক্ষতি বা ধ্বংস করতে পারে
  • অন্যান্য রাসায়নিকের সাথে ভয়ানকভাবে বিক্রিয়া করতে পারে

রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বদা সুরক্ষা নির্দেশনা বা সেফটি ইন্সট্রাকশন মেনে চলুন! রাসায়নিক দ্রব্যের সুরক্ষিত সংরক্ষণ আপনার কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ রাখবে।

টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যসমূহ

প্রাক-উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যসমূহ
(যেমন: ডিটারজেন্ট, সাইজিং এজেন্ট, ঘষা-মাজার রাসায়নিক এজেন্ট ইত্যাদি)

মৌলিক রাসায়নিক
(যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, হাইড্রোজেন পারক্সাইড ইত্যাদি)

রং
(যেমন: প্রতিক্রিয়াশীল রং, বিচ্ছুরিত রং, বড় চৌবাচ্চায় রাখা রং, রঞ্জক)

প্রক্রিয়াকরণ রাসায়নিক
(যেমন: সফটনার, ফিক্সার, ওয়াটার রিপিলেন্ট ইত্যাদি)

বর্জ্য পানি পরিশোধনে ব্যবহৃত রাসায়নিক
(যেমনঃ সালফিউরিক এসিড)

কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিস্তারিত জানতে সবসময় প্রতিটি রাসায়নিকের সেফটি ডাটা শিট দেখুন!

আপনার কর্মক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থের ব্যাপারে যা জানা জরুরি

  • ব্যারেল, বোতল, ব্যাগ, বাক্স ইত্যাদির লেবেলে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের জন্য ব্যবহৃত প্রতীকগুলো খেয়াল করুন
  • কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের আগে সমস্ত লেবেলিং, ছবি, সেফটি ডাটা শিট এবং নির্দেশাবলী পড়ুন
  • কোনো রাসায়নিক দ্রব্য আপনার অপরিচিত হলে অবিলম্বে আপনার সুপারভাইজারের সাথে যোগাযোগ করুন
  • জরুরী প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্ল্যান) সম্পর্কে ধারণা রাখুন
  • রাসায়নিক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করুন

সেফটি ডাটা শিট (SDS)

এসডিএস (SDS) রাসায়নিক নিরাপত্তার জন্য একটি সহায়ক নির্দেশিকা ডকুমেন্ট। একটি SDS-এ ১৬ টি বিভাগ রয়েছে:

বিভাগ ১: রাসায়নিক পণ্য এবং কোম্পানি সনাক্তকরণ
বিভাগ ২: ঝুঁকি সনাক্তকরণ
বিভাগ ৩: গঠন, তথ্য ও উপাদানসমূহ
বিভাগ ৪: প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা
বিভাগ ৫: অগ্নি-নিরোধক ব্যবস্থা
বিভাগ ৬: দুর্ঘটনাবশতঃ অবমুক্তিতে ব্যবস্থা
বিভাগ ৭: ব্যবহার ও সংরক্ষণ
বিভাগ ৮: এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা
অধ্যায় ৯: বাহ্যিক এবং রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য
বিভাগ ১০: স্থিতিশীলতা এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা
বিভাগ ১১: বিষক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্য
বিভাগ ১২: পরিবেশগত তথ্য
বিভাগ ১৩: ডিস্পোজাল সংক্রান্ত বিবেচনা
বিভাগ ১৪: পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য
বিভাগ ১৫: নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত তথ্য
বিভাগ ১৬: অন্যান্য তথ্য

আপনার রাসায়নিক সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি রাসায়নিক দ্রব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট SDS অনুযায়ী কাজ করুন

রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার সংক্রান্ত কর্মক্ষেত্রের জন্য নির্দেশনা

সেফটি ডাটা শিটে উল্লিখিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে কর্মক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রতিটি রাসায়নিকের জন্য আলাদা নির্দেশাবলী তৈরি করা উচিত এবং ফ্যাক্টরিতে প্রদর্শন করা উচিত।

দয়া করে সবসময় গুরুত্বসহকারে এই নির্দেশাবলী পড়ুন।

ক্ষতিকর রাসায়নিক সনাক্তের চিহ্ন

রাসায়নিক দ্রব্যের ড্রামের লেবেল এবং সেফটি ডাটা শিট (SDS)-এ পাওয়া যাবে

স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত

অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ

ত্বকের জন্য ক্ষতিকর

গ্যাসীয় পদার্থ

ক্ষয়কারী

ক্ষয়কারী

বিস্ফোরণে

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর

অত্যন্ত বিষাক্ত

রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের সময় যথাযথ পি পি ই পরিধান করুন

ত্বকের সুরক্ষার জন্য: নিরাপত্তামূলক হ্যান্ড গ্লাভস এবং এপ্রোন

চোখের সুরক্ষার জন্য: কেমিক্যাল সেফটি চশমা বা ফেস শিল্ড

নিঃশ্বাসের সুরক্ষার জন্য:

  • ফিল্টার (ধুলা বা অ্যারোসল জাতীয় কঠিন এবং তরল কণার জন্য)
  • ভেপার মাস্ক

আপনি জানেন কি, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ মোতাবেক এটি বাধ্যতামূলক যে:

  • নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কর্মীকে পিপিই প্রদান করতে হবে
  • কমপক্ষে প্রতি ৬ মাস অন্তর পিপিই ব্যবহারের বিষয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে
  • সকল কর্মচারীকে বিনামূল্যে পিপিই সরবরাহ করতে হবে

পিপিই শরীরের সাথে যাথাযথভাবে ফিট না হলে বা সঠিকভাবে কাজ না করলে আপনার সুপারভাইজারকে অবহিত করুন।

পূর্ব সতর্কতা সবসময় পরবর্তী চিকিৎসার চেয়ে বেশী ভাল!

সঠিকভাবে গ্লাভস ব্যবহার সম্পর্কে আরও জানতে চান, এই অ্যাপের “ডাইং” সেকশনটি দেখুন।