ডাইং

নিরাপদে কাজ করার মধ্যে রাসায়নিক দ্রব্যের যথাযথ ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত, যার অর্থ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার করার চেয়েও বেশি কিছু।

কেমিক্যাল বা রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে কাজ করা

কেমিক্যাল নিয়ে কাজ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন।

ডাইং এর স্থানে খাবার গ্রহণ ও ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

খাবার গ্রহণ, পানি পান করা কিংবা ধূমপানের আগে আপনার হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন

মেঝেতে পড়ে যাওয়া তরল রঙ অবিলম্বে পরিষ্কার করে ফেলুন। এটি আপনাকে এবং আপনার পরিবেশকে নিরাপদ রাখবে।

ছড়িয়ে পড়া তরল রঙ কোন ভাবে শুকিয়ে গিয়ে বিষাক্ত ধূলিকণা হিসেবে বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্যে কাপড়ের তরল রঙ নিচে পড়ে গেলে সাথে সাথে মুছে ফেলুন।

পরামর্শ
ভেজা মেঝেতে পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে!

ডাই বা রঙ ব্যবহারে খুব সাবধানী হওয়া অত্যাবশ্যক

বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বাজারে বিভিন্ন প্রকারের ডাইং পণ্য রয়েছে। কিছু প্রতিক্রিয়াশীল এবং বিক্ষিপ্ত ডাই বা রঙ ত্বকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। কিছু প্রতিক্রিয়াশীল রঙ শ্বাসযন্ত্রে জ্বালা-পোড়া তৈরি করতে পারে। এই ধরনের রঙ থেকে তৈরি হওয়া ধূলিকণা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে পেশাগত ব্যাধি যেমনঃ হাঁপানি ঘটাতে পারে।

পরামর্শ
তাই সব ধরনের রঙের সংস্পর্শে আসা যথাসম্ভব কমিয়ে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিপজ্জনক জায়গাগুলোতে স্থায়ী সুরক্ষা গার্ড

দুই রোলারের মধ্যবর্তী স্থানে কিংবা রোলার এবং বস্ত্রের মধ্যবর্তী জায়গায় স্থায়ী সুরক্ষা গার্ড স্থাপিত না থাকলে এমনকি অঙ্গহানির মতো গুরুতর দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

পরামর্শ
স্থায়ী সুরক্ষা গার্ড সর্বদা সঠিক অবস্থানে আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

ওজন করার স্থানে তরল রঙের ব্যবহারবিধি

নিকটস্থ অবাধ বায়ুচলাচলের জায়গায় ডাই বা রঙ ওজন করার কাজ করতে হবে।
ত্বকের সাথে সংস্পর্শ কমিয়ে আনার জন্যে রঙ দানাদার, ধুলোহীন অথবা তরল অবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরামর্শ
ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা সেটা নিশ্চিত করুন।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই)

 

রঙ নিয়ে কাজ করার সময় প্রয়োজন যথেষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং যথাযথ পিপিই ব্যবহার:

  • এক্সস্ট ভেন্টিলেশন আছে শুধুমাত্র এমন স্থানেই কাজ করুন
  • একটি FFP2, N95 বা এরকম কোয়ালিটির মাস্ক পরুন
  • সেফটি চশমা পরুন
  • লম্বা হাতাওয়ালা হ্যান্ড গ্লাভস পরুন
  • রাসায়নিক প্রতিরোধী এপ্রোন পরুন
  • এবং পাউডার এবং তরল ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করুন

পরামর্শ
ডাই পাউডার এবং তরল যেন কখনই আপনার ত্বক বা ফুসফুসের সংস্পর্শে না আসে, তা নিশ্চিত করুন।

ডাই এর সংস্পর্শে আসলেই অনতিবিলম্বে যা করবেন

জামাকাপড়: দেরি না করে চট জলদি বদলে ফেলুন।
ত্বক: কলের প্রবাহমান পানিতে ত্বক ঘষে ত্বক থেকে রাসায়নিক পরিষ্কার করুন। (দ্রষ্টব্য: কাছাকাছি স্থানে প্রবাহমান পানির কলের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে)
চোখ: অন্তত ১৫ মিনিট ধরে প্রবাহমান কুষুম গরম পানিতে চোখ খোলা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং পরামর্শের সময় ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সেফটি ডাটা শিট সাথে নিন।

পরামর্শ
নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।

নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।

এটা নিশ্চিত করুন যে হাইড্রোসালফাইট এর সাথে যেন পানি অপরিকল্পিতভাবে কোনভাবেই সংস্পর্শ না আসে।

হাইড্রোসালফাইট (রাসায়নিক নাম: সোডিয়াম ডাইথায়োনাইট) হলো একটি তীব্র কটু গন্ধযুক্ত সাদা স্ফটিক পাউডার। ডাইং প্রক্রিয়ায় ত্রুটিপূর্ণ দাগ বা রঙ অপসারণের ক্ষেত্রে এই পদার্থ ভ্যাট রঙ (যেমনঃ ইন্ডিগো)-এর সাথে এজেন্ট হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

যদিও হাইড্রোসালফাইট শুকনো অবস্থায় স্থিতিশীল থাকে কিন্তু পানি এবং আর্দ্রতার সংস্পর্শে আসলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে। তাই হাইড্রোসালফাইট ব্যবহারে আর্দ্র অবস্থা এড়িয়ে চলুন। কন্টেইনার খোলা অবস্থায় রাখবেন না, লিক বা চুইয়ে পড়া এবং পানির সাথে সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। ব্যবহারের আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার পরিহিত সরঞ্জাম শুষ্ক আছে।

সতর্ক থাকুন
হাইড্রোসালফাইট পানির সাথে মিশে বিক্রিয়া করে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। যা থেকে সহজেই গুদামে আগুন লাগতে পারে।

পরামর্শ
হাইড্রোসালফাইট সর্বদা বদ্ধ জায়গায় সংরক্ষণ করুন।

হাইড্রোসালফাইট নিয়ে কাজ করা

যদি সম্ভব হয়, সর্বদা একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রস্তুতকরণ মেশিন ব্যবহার করুন।

হাত দিয়ে হাইড্রোসালফাইট মিশ্রিত করার ক্ষেত্রে নিশ্চিত করুন যে-  

  • পানির তাপমাত্রা যেনো নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি না হয়

এবং

  • ধীরে ধীরে এবং সবদিকে সমানভাবে হাইড্রোসালফাইটের স্ফটিক ঢালা হয়
  • শুধুমাত্র সম্পূর্ণ শুকনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়

গরম করার আগে মিশ্রণে কোনও দলা বা গুটি থাকা যাবে না! গরম পানির সংস্পর্শে আসামাত্র হাইড্রোসালফাইট স্ফটিক ভয়ঙ্করভাবে ফুটতে শুরু করতে পারে। মিশ্রনটি ভালোভাবে নাড়ুন এবং মেশান যাতে হাইড্রোসালফাইট স্ফটিকের কোনো দলা বা গুটি না থাকে। কারণ এই দলা বা গুটি আকষ্মিকভাবে ফুটে গিয়ে অনিবার্যভাবে শরীর এবং মুখে তীব্র পোড়া যখম ঘটাতে পারে।

পরামর্শ
হাইড্রোসালফাইট অত্যন্ত সাবধানে পরিচালনা করুন। নিশ্চিত হোন যে পানি ঠান্ডা থাকা অবস্থাতেই দ্রবণটি সম্পূর্ণভাবে মিশ্রিত হয়। পানি সামান্যতমও গরম হয়ে গেলে পরবর্তীতে আর কিছু যোগ করবেন না।

ফর্মালডিহাইড-ভিত্তিক রাসায়নিক – কিভাবে সনাক্ত করা যায়

টেক্সটাইল ফিনিশিং প্রক্রিয়ায় এমন অনেক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয় যা চোখ, ত্বক এবং শ্বাসযন্ত্রে জ্বালা তৈরি করে।

এর মধ্যে রয়েছে ফর্মালডিহাইড-ভিত্তিক রেজিন। ফর্মালডিহাইড একটি বর্ণহীন, তীব্র-গন্ধযুক্ত গ্যাস, বাণিজ্যিকভাবে পানির সাথে মিশ্রিত দ্রবণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

কাপড়ে সব ধরণের আরামদায়ক বৈশিষ্ট্য (যেমন অ্যান্টি-স্ট্যাটিক, অ্যান্টি-রিঙ্কেল এবং অ্যান্টি-শ্রিংক) যোগ করার জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। ফর্মালডিহাইড আছে, এমন পদার্থগুলোতে উল্লিখিত এই তিনটি ক্ষতিকর চিহ্ন সম্বলিত লেবেল থাকতে হবে।

কাপড় প্রক্রিয়াজাত করণের সময় শ্রমিকরা নানাভাবে এই রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শে আসতে পারে। ফর্মালডিহাইড দ্রবণের সাথে মানবদেহের সংস্পর্শের প্রধান পথ হলো শ্বাসযন্ত্র। প্রাথমিকভাবে নাক এবং মুখের শ্লেষ্মার মাধ্যমে, এবং অনেক সময়ে শ্বাসনালী বা শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমেও মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। যা চোখ এবং শ্বাসযন্ত্রে জ্বালা তৈরি করা সহ ত্বকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। রেজিনের জলীয় দ্রবণ নিয়ে কাজ করার সময়েও ত্বকের সাথে এর সংস্পর্শে আসা সম্ভব।

ফর্মালডিহাইডের সাথে উচ্চ মাত্রার সংস্পর্শ নাকে ক্যান্সার পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরামর্শ
ফর্মালডিহাইডের সাথে সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কম রাখুন।

ফর্মালডিহাইড – ঘনত্ব কম রাখুন

বাতাসে ফর্মালডিহাইডের ঘনত্ব যতটা সম্ভব কম রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, বদ্ধ বায়ু নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা এগজস্ট সিস্টেম থাকা জরুরি। নিশ্চিত করুন যে বায়ু নিষ্কাশন ব্যবস্থার সব দরজা যখনই সম্ভব তখনই যেনো বন্ধ করে রাখা হয়।

পরামর্শ
বায়ুচলাচল ব্যবস্থার সকল দরজা বন্ধ হওয়ার জন্য একটি অটোমেটিক সিস্টেম ব্যবহার করুন।

পানির ট্যাংকি

ট্যাংকির চারপাশে শক্ত নিরাপত্তা বেড়া থাকতে হবে যাতে কেউ পিছলে পড়ে রাসায়নিকের সংস্পর্শে না আসে বা ডুবে না যায়।

এমনকি ট্যাংকিতে তরলের উচ্চতা কেবল হাঁটু পর্যন্ত থাকলেও ট্যাংকির পিচ্ছিল মেঝে মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

পরামর্শ
পানির ট্যাংকি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের জন্য গ্লাভস

শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ নির্ধারিত রাসায়নিক প্রতিরোধী গ্লাভস ব্যবহার করুন, কারণ সেগুলো নিশ্চিতভাবেই নির্দিষ্ট রাসায়নিক দ্রব্য থেকে আপনাকে যথাযথ সুরক্ষা দিবে।

হাতের আকারের উপর ভিত্তি করে গ্লাভস বিভিন্ন সাইজের হতে পারে। নিশ্চিত করুন যে আপনার ব্যবহৃত গ্লাভস আপনার আঙ্গুল এবং হাতে যথাযথভাবে ফিট হয়। এটি আপনাকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে।

পরামর্শ
পাশের ছবির মতো করে গ্লাভসের উপরের অংশ নিচের দিকে ভাজ করে রাখুন যাতে রাসায়নিকগুলি আপনার ত্বক স্পর্শ না করে।

গ্লাভস – পরার আগে

নিশ্চিত করুনঃ

  • আপনার হাত পরিষ্কার এবং শুকনো
  • আপনার গ্লাভস পুরোপুরি অক্ষত আছে এবং
  • আপনার গ্লাভসের ভিতরের অংশ পরিষ্কার এবং শুকনো আছে

পরামর্শ
যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক গ্লাভস নিয়মিত বদলানো উচিত। গ্লাভস প্রতিদিন ভালো করে নিরিক্ষা করা আবশ্যক এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্লাভস অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা উচিৎ।

গ্লাভস পরার পর

 

প্রথমে গ্লাভসের বাইরের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করুন এবং শুকিয়ে নিন।

গ্লাভসের বাইরের অংশ সরাসরি হাতে স্পর্শ না করে যেভাবে গ্লাভস খুলবেনঃ

  1. এক হাতের গ্লাভসের আঙ্গুলগুলো টেনে আলগা করুন
  2. তারপর একই ভাবে অন্য হাতের গ্লাভসও খুলুন
  3. পাশের ছবিতে দেখানো পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন

পরামর্শ
হাতের ঘামের কারণে সুরক্ষা গ্লাভসের ভেতরের অংশ ভিজে যেতে পারে। তাই ব্যবহারের পর হ্যান্ড গ্লাভস বাইরে রৌদ্রে ঝুলিয়ে রেখে সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে নেওয়া উচিত।

সেফটি চশমা বা নিরাপত্তামূলক চশমা

সতর্ক থাকুন
কোন ডাই বা রাসায়নিক দ্রব্যের তরল ফোঁটা যেনো আপনার চোখের সংস্পর্শে আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা চশমাগুলো অবশ্যই আপনার চোখে এমনভাবে ফিট হতে হবে যাতে চোখের চারপাশ আবদ্ধ থাকে।